সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাতক্ষীরায় নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের গবেষণা প্রকল্প: ফলাফল প্রদর্শনী ও সমাপনী কর্মশালা 

নিজস্ব প্রতিনিধি।।
নভেম্বর ২১, ২০২৫ ১:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাতক্ষীরার এল¬ারচরস্থ ‘চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল প্রদর্শনী এবং সমাপনী কর্মশালা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি. এম. সেলিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
আলোচনাপর্বে অংশ নেন মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক বিপুল কুমার বসাক, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের উপপ্রকল্প পরিচালক ড. মো. শরিফুল আজম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক আ. ন. ম. মুশফিক সালেহীন, এবং সিনিয়র সহকারী পরিচালক ফারহানা তাছলিমা। বক্তারা বলেন, নিবিড় পদ্ধতির চিংড়ি চাষ উপকূলীয় অঞ্চলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতিতে টেকসই মৎস্যচাষ নিশ্চিত করবে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ কর্মশালায় গবেষণা প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রকল্পের মূখ্য গবেষক ড. মো. হাসান ফারুক। তাঁর সঙ্গে সহকারী মূখ্য গবেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির অধ্যাপক ড. হাবিবুল¬াহ আল মামুন। তাঁরা উপস্থাপনায় জানান, নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে পানির গুণগত মান, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদনশীলতা বিষয়ে নানা ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষামূলক চাষে উৎপাদন পূর্বের তুলনায় উলে¬খযোগ্য হারে বেড়েছে বলেও জানানো হয়।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন উপজেলার চিংড়ি চাষিরা। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, গবেষণা প্রকল্পের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে চিংড়ি উৎপাদনে সাতক্ষীরাকে আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনা পর্বটি ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক। সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার চিংড়ি চাষিরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ, খাদ্য ও রোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। গবেষক ও কর্মকর্তারা তাঁদের প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন এবং চাষিদের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োগযোগ্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক বাজারে গুণগত মানসম্পন্ন চিংড়ির চাহিদা এখনো অত্যন্ত বেশি। তাই নিবিড় পদ্ধতির আধুনিক চাষ ব্যবস্থাকে মাঠে বিস্তৃত করতে পারলে সাতক্ষীরা জেলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার, রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশসম্মত চাষ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে টেকসই চিংড়ি খাত গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

চিংড়ি চাষিরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা বাড়লে তাঁরা এই নতুন প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন। গবেষণা প্রকল্পের ইতিবাচক ফলাফলকে ভিত্তি করে দেশে নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও তারা মত দেন।
সামগ্রিক আলোচনায় বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ খুব অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চিংড়ি উৎপাদক দেশে পরিণত হবে। সাতক্ষীরার অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবেও কাজ করবে বলে কর্মশালায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। #

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।