সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ২য় শ্রেণির এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রী শিবাঙ্গী বাছাড় (২য় শ্রেণি) রায়পুর গ্রামের সজল বাছাড়ের মেয়ে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। বেলা ৩টা থেকে তাকে অবরুদ্ধ রাখা হয়। পরে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি মুচলেকা দেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ে আর না আসার কথাও জানান। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
ছাত্রীর মা দীপা বাছাড় জানান, স্কুল থেকে মেয়ের কান্নার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে কাঁদছে। প্রধান শিক্ষক প্রথমে একটি চড় মারার কথা স্বীকার করলেও বাড়িতে এনে দেখা যায়, মেয়ের পিঠে আঘাতের চিহ্ন ও লাল দাগ রয়েছে। এমনকি কানে আঘাতের কারণে রক্ত বের হয় এবং মুখে ফোলা দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গণিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে মেয়েকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত ছাত্রী শিবাঙ্গী বাছাড় জানায়, “স্যার আগে না জানিয়ে অংক পরীক্ষা নেন। আমি না পারলে স্যার আমাকে মুখে, পিঠে ও কানে মারেন।”
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জি এম আবুল হাশেম বলেন, “শিক্ষার্থীকে দুইটি চড় লেগে গেছে।”
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল রহমান বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খলিলনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ মণ্ডল জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।
