সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়ন ঝাটিকাটা গ্রামের ভদ্রকান্ত সরকার সবসময়ই মাছ চাষে আগ্রহী ছিলেন। জমি ছিল, শ্রম ছিল, স্বপ্নও ছিল—কিন্তু ছিল না সঠিক পদ্ধতি আর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ফলে যতই চেষ্টা করতেন, ঘেরে মাছ ঠিকমতো বাঁচত না। কখনো অক্সিজেন কমে যেত, কখনো রোগ ছড়াত, আবার কখনো উৎপাদন খরচই উঠে আসত না। একসময় মনে হচ্ছিল চাষটা হয়তো তার পক্ষে সম্ভব নয়।
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাসের RMTP প্রকল্প ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন,ডানিডাও ইফাদ অর্থায়নে থেকে তিনি আধানিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ পান এবং আর্থিক সহায়তা পান। এখান থেকেই তার জীবনে আসল পরিবর্তন শুরু হয়। তিনি সেই অর্থ দিয়ে একটি এয়ারেটর মেশিন কিনলেন—যা ঘেরে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মাছকে রোগ-ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
এয়ারেটর চালু করার পর তিনি বুঝলেন পরিবর্তন কত বড় ছিল। যে ঘেরে আগে মাছ বাঁচত না, সেই ঘেরেই এখন পানি সবসময় স্বচ্ছ, মাছগুলো সক্রিয়, আর বৃদ্ধিও দ্রুত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার ঘেরের পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়।
আগে তার লাভ খুবই কম হত, এখন একই জায়গায় অ্যারেটর ব্যবহার করায় অধিক মাছ চাষ করতে পারচ্ছে এবং লাভ ও হচ্ছে অনেক। শুধু লাভই নয়—মাছের মৃত্যু কমেছে, খাদ্য খরচ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, আর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সবচেয়ে বড় কথা, তিনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। আগে যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ছিল, এখন সেখানে আছে স্বপ্ন—ঘের বাড়ানোর, নতুন প্রযুক্তি শিখে আরও ভালো করার, পরিবারকে আরও নিরাপদ জীবন দেওয়ার।
ভদ্রকান্ত সরকার বলেন—
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সংস্থা সাসের RMTP প্রকল্প ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন,ডানিডাও ইফাদ “ আমাকে শুধু অনুদান দেয়নি, দিয়েছে বাঁচার পথ। এই সহায়তা আমি কখনো ভুলব না।”
আজ তার ঘের এলাকায় যারা হাঁটেন, সবাই তার সাফল্যের গল্প শোনেন। তিনি এখন গ্রামের অন্য চাষিদেরও পরামর্শ দেন এবং নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—সঠিক দিকনির্দেশনা আর একটু সহায়তা পেলে একজন মানুষ নিজের ভাগ্য বদলে ফেলতে পারে।
