সাতক্ষীরার তালায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ কানাইকুড়ি বিলে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বালিয়াদহ, চাঁদকাটি, রঘুনাথপুর ও বাগমারা সম্মিলিত কমিটির উদ্যোগে এবং বালিয়াদহ গ্রামবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
শাহনেওয়াজ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং মাস্টার ওলিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেখ শফিকুল ইসলাম ও মাগুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এসকে ফারুক হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিনা খাতুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রতিযোগিতায় তালা উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়। ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো উৎসুক দর্শনার্থী বিলের চারধারে ভিড় জমান। পুরুষ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
দর্শক শিরিনা ফারুক সাগর বলেন, “ঘোড়া দৌড় আমাদের গ্রামবাংলার শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য। এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। এমন আনন্দময় অনুষ্ঠান প্রতি বছর হলে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি টিকে থাকবে।”
দর্শক শিরিনা খাতুন বলেন, “অনেক বছর পর এলাকায় এত বড় ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা দেখলাম। ছেলেমেয়ে নিয়ে এসেছি, সবাই খুব আনন্দ পেয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী খেলা ধরে রাখা দরকার।”
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে খুলনার কয়রার ঘোড়া ‘ভোরের পাখি’, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নড়াইলের ঘোড়া এবং তৃতীয় স্থান পায় তালা উপজেলার বালিয়ার ঘোড়া।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী সওয়ারীদের মাঝে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১ম পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা, ২য় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা, ৩য় পুরস্কার ৫ হাজার টাকা, ৪র্থ পুরস্কার ৩ হাজার টাকা, ৫ম পুরস্কার ২ হাজার টাকা এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের সংস্কৃতির একটি মৌলিক অংশ। বর্তমান যুবসমাজ মারাত্মক মাদকাসক্তি ও ক্ষতিকর মোবাইল স্ক্রিন আসক্তিতে ডুবে যাচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সুস্থ বিনোদন ও মাঠপর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। চমৎকার এই আয়োজন গ্রামীণ সৌহার্দ্য আরও বৃদ্ধি করবে।”
খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
