বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক কবি সিকান্দার আবু জাফরের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিমিরান্তিক-তালা উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি ‘সিকান্দার আবু জাফর: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক একটি অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিতব্য এ প্রতিযোগিতা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে এমসিকিউ ও এক কথায় উত্তরধর্মী প্রশ্ন থাকবে।
সিকান্দার আবু জাফরের পুরো নাম সৈয়দ আল হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখত সিকান্দার। তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ মাওলানা সৈয়দ আলম শাহ হাশেমী পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে এসে ওই গ্রামে বসতি স্থাপন করেন।
তিনি বর্তমান তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কর্মজীবনের শুরুতে কলকাতা মিলিটারি অ্যাকাউন্টস বিভাগে চাকরি করেন। পরে সিভিল সাপ্লাই বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকায় এসে তিনি দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। এছাড়া তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলা সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সিকান্দার আবু জাফর। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক গান, বিশেষ করে “আমাদের সংগ্রাম চলবেই চলবে”, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগণকে সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস পুরবী ও নতুন সকাল; ছোটগল্প মাটি আর অশ্রু; কাব্যগ্রন্থ প্রসন্ন শহর, তিমিরান্তিক, বৈরী বৃষ্টিতে, বৃষ্টিকলগ্ন ও বাংলা ছাড়ো; নাটক সিরাজউদ্দৌলা ও মহাকবি আলাওল; এবং অনুবাদগ্রন্থ রুবাইয়াত: ওমর খৈয়াম, জাদুর কলস ও সেন্ট লুইয়ের সেতু।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৮৪ সালে (মরণোত্তর) একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
কুইজ প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে তিমিরান্তিকের সভাপতি তাসনিম রুবাইয়াত বলেন, “কবি সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর রচিত গান মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। অথচ বর্তমান সময়ে তাঁকে নিয়ে প্রয়োজনীয় চর্চা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, কর্ম ও সাহিত্যকীর্তি তুলে ধরতেই আমাদের এই উদ্যোগ।”
প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা যাবে:
তাসনিম রুবাইয়াত
সভাপতি, তিমিরান্তিক-তালা উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল: ০১৭৮৪-৭১৬১৫২।
