সাতক্ষীরার তালায় মাদকের তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করতে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে ফারুক বিশ্বাস (৪১), নূর ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল বিশ্বাস (৩৪) ও মোসলেম খাঁর ছেলে রাশেদ খাঁ (২৫)। মামলায় ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলা নম্বর ৩, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গত ৩ অক্টোবর রাতে হাজরাকাটি বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখকে মারধর করা হয়। বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হযরত সরদারসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
লাঠিপেটায় আহত সোহেলকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি তালা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে রোববার রাতে অভিযুক্তদের আটক করতে হাজরাকাটি গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ।
এ সময় হযরত নামে এক অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস ও রাশেদ খাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহাসীন বলেন, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়। এ সময় আটক এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে।
