সাতক্ষীরা সদরের আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তার দলীয় পরিচয়ের প্রমাণপত্র ও সারের ডিলারশিপের চূড়ান্ত তালিকার দুটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবি দুটির একটিতে রেজাউল ইসলামের আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় পদের বিবরণ রয়েছে। অপর ছবিতে সম্প্রতি প্রকাশিত কৃষি মন্ত্রাণালয়ের অনুমোদিত সারের নতুন ডিলারদের তালিকার মধ্যে তার নাম দেখা যায়।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সারের কৃত্রিম সংকট সমাধানে সরকার যখন রাষ্ট্রীয় জরুরী সার ডিলার নিয়োগ দিচ্ছেন সারের মতো জরুরি কৃষি উপকরণের ডিলারশিপ বণ্টনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাকে যুক্ত করে নতুন করে কৃষকদের জিম্মি করা হতে পারে। দীর্ঘ ১৭ বছর দলীয় প্রভাবে যে ব্যাক্তি সাধারন মানুষকে হামলা-মামলা দিয়ে অত্যাচার করত সেই ব্যাক্তি সরকার পতনের পর কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পেল তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সাধারণ ব্যবসায়ী ও কৃষকরা রেজাউল ইসলামের ডিলারশীপ বাতিল পূর্বক প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার নিয়োগে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট হওয়া ছবিগুলোর কমেন্ট বক্সে অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, কৃষিখাতের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেওয়া উচিত ছিল। একজন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের পদে থাকা ব্যক্তি ডিলারশিপ পাওয়ায় স্থানীয় সার বিতরণে প্রভাব পড়ার কোন অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল ।
তবে এ বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বা স্থানীয় কৃষি বিভাগের কোনো অফিশিয়াল বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ডিলারশিপ বণ্টনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
##
