শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিকদের নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে তালায় মানববন্ধন, হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি,
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১:৩৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সেগুলোর তদন্তের দাবি জানান বক্তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাব চত্বরে তালা প্রেসক্লাব ও উপজেলা প্রেসক্লাবের যৌথ আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দারের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান রাজুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন একাত্তর টিভির জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জি, সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর ইসলাম সাইদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিঠু, পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব খান নাজমুল হোসেন এবং তালা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন।
আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম এ ফয়সাল, শফিকুল ইসলাম, শামীম খান, এম এম জামান মনি, শাহিন আলম, আজমল হোসেন জুয়েল, শেখ ইমরান, তরিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, মোখলেছুর রহমান, মোতাহিরুল মাহিন, মীর মিল্টন,জহর হাসান সাগর, গোলাম রব্বানী, ফারুক সাগর, জয়দেব চক্রবর্তী, শিরিনা আক্তার, অর্জুন বিশ্বাস, সেকেন্দার আবুজাফর বাবু, জমির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম নয়ন, আরিফ বিল্লাহ, কামাল হোসেন ও হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।
বক্তারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের হয়রানি বৃদ্ধি, ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা না পাওয়া এবং হাসপাতালের মালামাল বিক্রির অভিযোগও করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মালামাল বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কিছু মালামাল ফেরত আনা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, হাসপাতালের সেবার মান, রোগীদের ভোগান্তি এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হাসপাতালসংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আমার দেওয়া পোস্ট এক্সপ্লেইন করেছি। আমার পোস্টে কোনো মিডিয়াকর্মী কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ডা. মিজানুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আমার মনে হয় কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী।”

তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তালা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন সাংবাদিকের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে সাংবাদিকেরা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে ওই মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক তাঁর বিরুদ্ধে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দিয়ে আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ডা. মিজানুর রহমান। সেখানে তিনি লেখেন, “কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে কে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। আমার দেওয়া পোস্ট এক্সপ্লেইন করলাম। আমার পোস্টে কোনো মিডিয়াকর্মী কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।