সারাদেশের টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরায় শুরু হতে যাচ্ছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। এ উপলক্ষে রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জেলার ৬ মাস (১৮০ দিন) থেকে ৫ বছরের কম বয়সী (৫৯ মাস ২৯ দিন পর্যন্ত) মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় এমআর টিকা প্রদান করা হবে। টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলার ২ হাজার ৪১৭টি স্থায়ী, অস্থায়ী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে পরিচালিত হবে এবং শেষের ৩ দিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম চলবে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, যেসব শিশু পূর্বে এমআর বা হামের টিকা গ্রহণ করেছে কিংবা হাম বা রুবেলা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, তাদেরও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা নিতে হবে। তবে পূর্ববর্তী টিকা গ্রহণের সঙ্গে অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে। এতে করে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা এই কর্মসূচির সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বয়সসীমার সকল শিশুকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চিকিৎসক ডা. রাশেদ উদ্দিন মৃধা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরী।
এমওডিসি ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে কোনো শিশু অসুস্থ থাকলে তাকে সাময়িকভাবে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, টিকা গ্রহণের পর শিশু ও শিক্ষার্থীরা ‘ভাক্সেপি’ অ্যাপের মাধ্যমে টিকাদানের সনদ সংগ্রহ করতে পারবে। এজন্য জন্মনিবন্ধনের ১৭ সংখ্যার নম্বর ব্যবহার করে আগে থেকেই নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমওসিএস ডা. ইসমত জাহান সুমনা বলেন, অনেক অভিভাবক মনে করেন নিয়মিত টিকাদানের দুই ডোজ গ্রহণ করলেই যথেষ্ট সুরক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকা শিশুদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তাই সকল অভিভাবকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আরও কথা বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, শরীফুল¬াহ কায়সার সুমন, মমতাজ আহমেদ বাপী, মনিরুল ইসলাম মিনি, আমিনা বিলকিস ময়না, গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান, জেলা ইপিআই সুপারিন্টেনডেন্ট শেখ আব্দুল বাকীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর মাধ্যমে সাতক্ষীরায় হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে উলে¬খযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে। # ১৯ ৪ ২৬
