শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়াদ শেষ, জ্বালানি সংকট ও বালির অভাবে থমকে কেবিএস প্রকল্পের কাজ; বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি।।
মে ১৫, ২০২৬ ৮:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিকাদাররা। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, বালির অভাব এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে উন্নয়ন কাজের গতি অনেকটাই কমে গেছে। এরই মধ্যে কেবিএস প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার সরকারি চাপ থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

খুলনা-সাতক্ষীরা-বাগেরহাট (কেবিএস) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক, ব্রিজ, ঘাটলা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। অনেক প্রকল্প ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও বেশ কিছু কাজ এখনো আংশিক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তড়িঘড়ি করে কয়েকটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয় এবং দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও হঠাৎ জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ায় কাজের গতি কমে যায়। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী যানবাহন, মাটি কাটার যন্ত্র এবং পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়েছেন।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের চার ভাগের এক ভাগ কাজও সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বালি সংকট প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সবচেয়ে বেশি বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় বালির সরবরাহ না থাকায় সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নদী ও খাল থেকে বালি উত্তোলনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকায় সময়মতো নির্মাণসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও অনেক সময় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

একাধিক ঠিকাদার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে গেলে নিম্নমানের কাজ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় হবে, অন্যদিকে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

তারা আরও বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনিক চাপও বেড়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও জ্বালানি সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি ঠিকাদারদের।

এদিকে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার সংসদ সদস্যরা স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পৃথক ডিও লেটার দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিবর্তে চলমান উন্নয়ন কাজগুলো আগে সম্পন্ন করা জরুরি।

জনপ্রতিনিধিদের মতে, অসমাপ্ত সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও সড়ক খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার ব্রিজের সংযোগ সড়ক অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জনগণের ক্ষোভ বাড়ছে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ইজ্জত উল্ল্যাহ চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জনগণের সুবিধার জন্যই এসব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে। তাই নতুন প্রকল্পের চেয়ে চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা থাকলেও দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সংকট ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে কিছু প্রকল্পে সময় বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে হলে পর্যাপ্ত সময়, উপকরণ ও অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় উন্নয়ন কাজ শেষ হলেও তা টেকসই হবে না।

সবমিলিয়ে কেবিএস প্রকল্পের আওতায় চলমান উন্নয়ন কাজ এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। জ্বালানি সংকট, বালির অভাব, ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কবে নাগাদ এসব কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে জনমনে। তবে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।