‘সুরক্ষা করি জলাভূমি বাঁচাই সংস্কৃতি’ এই প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাভূমি দিবস। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালের পাড়ে দিবসটি উপলক্ষে মানববন্ধন, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে প্রাণসায়ের খালের পূর্ব তীরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেন পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, এনজিও কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানববন্ধন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মী অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, জলাভূমি শুধু পরিবেশ রক্ষার মাধ্যম নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জলাভূমি ধ্বংস হলে প্রকৃতি যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তেমনি মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।
বক্তব্য রাখেন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব দত্ত, হেড সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন, প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্বাহী পরিচালক শেখ আবুল কালাম আজাদ প্রান্তিক যুব সংঘ এর সভাপতি হৃদয় মন্ডল উন্নয়ন কর্মী রেহেনা পারভীন তরিকুল ইসলাম অন্তর, বায়েজিদ হোসেনসহ সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মী, পরিবেশকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শেখ আফজাল হোসেন।
বক্তারা জলাভূমি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাণসায়ের ও পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব ও মুখপাত্র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাতক্ষীরার বহু জলাভূমি আজ বিলুপ্তির পথে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হবে।
কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতারের কাছে জেলার জলাভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করার দাবিতে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, জলাভূমি রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। #
